1. admin@sottosongbad.com : admin :
অধ্যক্ষকে ‘পেটানো’ চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার - রংপুর বার্তা
মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১০:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বারহাট্টায় বিএনপির ২৬২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা -আটক ১ পাটগ্রামে কর্মসৃজন প্রকল্প কাজের উদ্বোধন আগামী ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ২৭তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা চাকরি দেয়ার জন্য টাকা নিয়ে অন্যজনকে নিয়োগ, মাদ্রাসায় তালা সুন্দরগঞ্জ বাজার দোকান মালিক সমিতির নির্বাচনে-সভাপতি-মিজান, সম্পাদক-লেলিন হাতীবান্ধায় সীমান্তে এক যুবককে বিএসএফের বন্দুকের বাট দিয়ে পিটিয়ে মারার অভিযোগ হানিফ কোচের ধাক্কায় সড়কে প্রাণ গেল বাবা-মা ও মেয়ের সিরাজগঞ্জে দিনব্যাপী হজ প্রশিক্ষণ ও হাজী সমাবেশ অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামের নন্দনকানন রিয়াজউদ্দিন বাজারে ১৪০০ জনের ফ্রি ব্লাড গ্রুপ নির্ণয় সুজানগরে চুরি হওয়ার পাঁচ ঘন্টার মধ্যে চোর সহ চুরিকৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার

অধ্যক্ষকে ‘পেটানো’ চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ২২ জুলাই, ২০২২
  • ৫৩ বার পঠিত

অধ্যক্ষকে ‘পেটানো’ চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

রংপুর ডেস্কঃ

খুলনার কয়রায় মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগে জেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

খুলনা শহরের ভাড়া বাসা থেকে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বাহারুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে র‍্যাব-৬-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বজলুর রশীদ বলেন, ‘গ্রেপ্তার চেয়ারম্যানকে কয়রা থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

গত ১৮ জুলাই কয়রা উত্তরচক আমিনীয়া বহুমুখী কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাসুদুর রহমানকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ ওঠে চেয়ারম্যানের ‍বিরুদ্ধে। এরপর বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে কয়রা থানায় অধ্যক্ষের স্ত্রী সাদিয়া সুলতানা বাদী হয়ে মামলা করেন।

কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবিএমএস দোহা বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত ১২ টার দিকে অধ্যক্ষের স্ত্রী বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন। এ মামলার অন্যতম আসামি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে র‍্যাব গ্রেপ্তার করেছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

আহত শিক্ষক মাসুদুর খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি জানান, গত সোমবার মাদ্রাসায় কাজ করছিলেন। ওই সময় সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম বাহারুল ইসলামের নেতৃত্বে স্থানীয় ইউনুসুর রহমান, নিয়াজ হোসেন, মাসুদুর রহমান, মিলন হোসেন, জহুরুল ইসলাম, রিয়াল, আমিরুল, অমিত মন্ডল, রফিকুল গাজী, সাদিকসহ ১৫ থেকে ২০ জন তাকে জোর করে ধরে কক্ষ থেকে বের করে নিয়ে যান।

তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের সাবেক অধ্যক্ষ মোস্তফা আব্দুল মালেকের উপস্থিতিতে বাহারুল আমাকে গালাগাল করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা আমাকে ফেলে চোখে, ঘাড়ে, কানে, পিঠে এলোপাতাড়ি মারপিট করে। এরপর সেখান থেকে তুলে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে নিয়ে আটকে রাখে। সেখানেও বেদম মারপিট করা হয়।

‘এতে আমার চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কানের পর্দা ফেটে যায়। একপর্যায়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।’
তিনি আরও বলেন, ‘জ্ঞান ফিরলে চেয়ারম্যান আমাকে মাদ্রাসা থেকে পদত্যাগ করতে বলেন। পরে কয়রা থানার এসআই মনিরুল ইসলাম আমাকে উদ্ধার করে।

‘প্রথমে আমাকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যরা।

অধ্যক্ষ জানান, তার মাদ্রাসাটি ঢাকার ইসলামিক অ্যারাবিক ইউনিভার্সিটির আওতাভুক্ত। তিন মাস আগে কলেজে সভাপতির দায়িত্ব দেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনজনের নাম চাওয়া হয়েছিল। তখন চেয়ারম্যান বাহারুল তার নাম দিতে জোর করেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘বাধ্য হয়ে বাহারুলসহ তিনজনের নাম প্রস্তাব করেছিলাম, তবে ইউনিভার্সিটি থেকে সেটা রিজেক্ট করে নতুন করে কমিটি দিতে বলা হয়েছিল।

‘পরে আমি মহারাজপুরের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ-আল মাহমুদসহ তিনজনের নাম প্রস্তাব করে আরেকটি কমিটি জমা দিই। তখন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মহারাজপুরের চেয়ারম্যানকে সভাপতি ঘোষণা করা হয়।

অধ্যক্ষ বলেন, ‘এরপর থেকেই সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাহারুল আমাকে নানা প্রকার হুমকি দিয়ে আসছেন। কয়েক দিন আগে আমার কাছ থেকে এক লাখ টাকা চাঁদা নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সভাপতি হতে পারিনি, তখন আমার কিছু টাকা খরচ হয়েছিল। সেই জন্য এক লাখ টাকা দিতে হবে। প্রাণের ভয়ে টাকা দিয়েছি।

‘তারপরও সে আমাকে তুলে নিয়ে মারধর করেছে। বলেছে, অধ্যক্ষের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে। না হলে এলাকায় ফিরতে পারব না। থানায় জানালেও মামলা না নিয়ে, প্রথমে বিষয়টি মিটমাট করতে বলা হচ্ছিল, পরে পত্রপত্রিকায় লেখা হলে থানায় মামলা নিয়েছে।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান এসএম বাহারুল ইসলাম বলেন, ‘এই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ ছিলেন মোস্তফা আব্দুল মালেক। তিনি অবসরে যাওয়ার পরে মাদ্রাসার সভাপতি হতে চেয়েছিলেন। পরে তিনি সভাপতি না হতে পেরে, আমাকে সভাপতি করতে চেয়েছিলেন।

‘সেখানে অধিকাংশ শিক্ষকরা ক্লাস ঠিকমতো করে না, বাইরে ঘুরে বেড়ান। তারা দেখলেন, আমি যদি সভাপতি হই তবে সমস্যা, আমি নিয়ম কড়াকড়ি করি। আমার সঙ্গে মহারাজপুরের চেয়ারম্যানের একটু সমস্যা আছে। তারা সেই চেয়ারম্যানকে এনে আমার ইউনিয়নে মাদ্রাসার সভাপতি বানাইছে। এই নিয়ে একটু বিরোধ আছে।

তিনি আরও বলেন, ‘নিজেদের লোকদের সঙ্গে অধ্যক্ষের ঠেলাঠেলি হয়েছিল। পরে তারা অধ্যক্ষকে আমার কার্যালয়ে এনেছিলেন। তখন আমি তার স্ত্রীকে খবর দিই। সে (অধ্যক্ষ) আমাকে একটা লিখিত দেয়। এরপর তাকে আমরা নিয়ে যাই। এটা আমরা স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করব।

‘তারপরে নানা রকমের অভিযোগ শুনতে পারি। আমি মারধরের কোনো ঘটনায় জড়িত নই। তিনি যদি এমন কোনো প্রমাণ দিতে পারে, তবে আমি দোষী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত  রংপুর বার্তা- ২০২২
Theme Customized By Dev Joynal