1. admin@sottosongbad.com : admin :
বিশ্বের আটটি দেশে রপ্তানি হবে নওগার আম। - রংপুর বার্তা
শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন

বিশ্বের আটটি দেশে রপ্তানি হবে নওগার আম।

  • আপডেট সময় : রবিবার, ১২ জুন, ২০২২
  • ৮৪ বার পঠিত

বিশ্বের আটটি দেশে রপ্তানি হবে নওগার আম।

নতুন রাজধানী উত্তরের জেলা নওগাঁ। একসময় ধানের রাজ্য হিসেবে পরিচিত হলেও বরেন্দ্রভূমির চিত্র পাল্টে দিয়েছে আম। এবার বিশ্বের আটটি দেশে আম রপ্তানি হবে। এ বছর বিদেশে পাড়ি দিবে ১০০ মেট্রিক টন আম।

দেশগুলো হলো- যুক্তরাজ্য, ইতালি, সুইডেন, জার্মানি, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান। এসব দেশে ১০০ মেট্রিক টন আমের চাহিদা রয়েছে। গত বছর ১৫ মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানি হয়েছিল।

জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা সাপাহার, পোরশা, পত্নীতলা, ধামইরহাট ও নিয়ামতপুর উপজেলার কিছু অংশ বরেন্দ্র এলাকা হিসেবে পরিচিত। বছরে একটিমাত্র বৃষ্টিনির্ভর ফসল আমন ধানের ওপর নির্ভর করতো হতো চাষীদের। পানিস্বল্পতার কারণে অন্যান্য ফসল চাষ করা সম্ভব হতো না। সেসব জমিতে ধানের আবাদ কমিয়ে চাষীরা ঝুঁকছেন আম চাষে। আম চাষে লাভবান হচ্ছেন চাষীরা। এ জেলার আম অত্যন্ত সুস্বাদু। ক্রেতাদের কাছেও মোটামুটি চাহিদা রয়েছে।

নওগাঁর পোরশা উপজেলার ঘাটনগর গ্রামের আমচাষী আশরাফুল ইসলামের ব্যানানা ম্যাংগো-এর বাগান জানা গেছে, বিদেশে আম রপ্তানির জন্য কৃষি বিভাগ থেকে কয়েকজন আম চাষিদের প্রশিক্ষণ ও নিরাপদ আম প্রস্তুতের জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব বাগান থেকেই আম বিদেশে রপ্তানি করা হবে। বিদেশে আম রপ্তানির পূর্বে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হয়। ফ্রুটব্যাগিং বা ওয়াটারপ্রুফ কাগজ দিয়ে প্রতিটি আম জড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে করে ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করতে পারে না। আমের রং ভাল থাকে। রপ্তানির ১৫ দিন আগে গাছে কীটনাশক স্প্রে বন্ধ করে দিতে হয়। এরপর আম পেড়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় মোড়কজাত করা হয়।

সাপাহার উপজেলার ‘সাপাহার বরেন্দ্র এগ্রো পার্ক’ এর তরুণ উদ্যোক্তা আম চাষি সোহেল রানা। এ বছর তিনি ৭০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের আমের চাষ করেছেন। তার বাগানে আম্র্রপালি, বারি-৪, গৌড়মতি, ব্যানানা ম্যাংগো, কাটিমন, ল্যাংড়া, হিমসাগর, ফজলি, মিয়াজিকি সহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের আম রয়েছে। এ বছর আম্র্রপালি, বারি-৪, গৌড়মতি, ব্যানানা ম্যাংগো ও কাটিমন এবং বিদেশি জাতের অস্টিনসহ কয়েক জাতের আম রপ্তানির আশা করছেন তিনি।

উদ্যোক্তা সোহেল রানা বলেন, ‘গত বছর ইংল্যান্ড ও কাতারে আম্র্রপালি এবং ব্যানানা ম্যাংগো জাতের ৮ মেট্রিক টন আম রপ্তানি করেছিলাম এবং দামও ভালো পেয়েছিলাম।

এবছর জার্মানি, ফিনল্যান্ড, দুবাই, ইংল্যান্ড, কাতার, সুইডেন ও ওমানে আম রপ্তানির চিন্তাভাবনা রয়েছে। সে লক্ষ্যে কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় ফ্রুটব্যাগিং ও নিরাপদ আম উৎপাদন করা হয়েছে। রপ্তানির উদ্দেশ্য হচ্ছে, ভাল দাম পাওয়া। দেশে যে দাম পাওয়া যায় তার থেকে দ্বিগণ দাম রপ্তানিতে পাওয়া যায়।’ এ বছর প্রায় ৫০ মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানি করার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পোরশা উপজেলার ঘাটনগর গ্রামের আমচাষী আশরাফুল ইসলাম। তিনি ৭৫ বিঘা জমিতে সাড়ে ৯ হাজার ব্যানানা ম্যাংগো আমের বাগান গড়ে তুলেছেন। গাছের বয়স প্রায় দেড় বছর। তিনি বলেন, বাগানের ৭০ হাজার আমে ফ্রুটব্যাগিং (চায়না প্যাকিং কাগজ) করা হয়েছে। প্রতিটি ব্যাগে খরচ পড়েছে ৪ টাকা থেকে সাড়ে ৪ টাকা। ফ্রুটব্যাগিং করায় কীটনাশকের খরচ কম পড়ছে। নিরাপদ আম উৎপাদনে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশে আম রপ্তানি করার জন্য কথা হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি সুপারশপও কথা বলেছে। তারা আমার বাগানের আম কিনতে চেয়েছে। বাজারজাত করার জন্য প্রতিটি ৫ কেজির প্যাকেট করতে বলা হয়েছে। ভাল দাম পাবো এবং লাভবান হবো বলে আশা করছি।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ২৯ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আমের চাষ হয়েছে। এরমধ্যে আম্রপালি ৭৬ শতাংশ, আশ্বিনা ৭ শতাংশ, বারি-৪ আম ৬ শতাংশ, ফজলি ৩ শতাংশ, ল্যাংড়া ৩ শতাংশ, ক্ষীরসাপাত ২ শতাংশ, গৌরমতি ১ শতাংশ, কাটিমন ১ শতাংশ এবং অন্য জাতের ১ শতাংশ জমিতে আমের বাগান রয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে ১২ মেট্রিক টন। সে হিসেবে প্রায় ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৩৫ মেট্রিন টন আম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

পোরশা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার সরকার বলেন, ‘এ উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে আম বাগান গড়ে উঠেছে। কীটনাশক ও রোগবালাই মুক্ত থাকতে এসব বাগান থেকে প্রায় ৫০ লাখ আম ফ্রুটব্যাগিং পদ্ধতিতে নিয়ে আসা হয়েছে। এতে করে নিরাপদ ও গুণগত মানসম্পন্ন আম আমরা পাবো। ইতোমধ্যে চাষীদের কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শামছুল ওয়াদুদ বলেন, ‘গত বছর ১৫ মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানি হয়েছিল। এবছর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দেশি ও বিদেশি জাত মিলে প্রায় ১০০ মেট্রিক টন আম রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে। এতে কয়েক কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া যাবে।

এ উদ্দেশ্যে চাষীদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। বিদেশে রপ্তানির জন্য শুরু থেকেই কিছু বাগান নির্ধারণ করা হয়েছে। বাগানে নিরাপদ আম উৎপাদনের জন্য কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে ফ্রুটব্যাগিং ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে করে বিদেশে আম যাওয়ার যেসব বাঁধা তা দূর হবে। এমনকি বিভিন্ন সুপারশপেও বিক্রি করা যাবে। কৃষকরা ভাল দাম পেয়ে লাভবান হবেন।’

তিনি বলেন, ‘আম্র্রপালি, বারি-৪, ব্যানানা ম্যাংগো ও গৌড়মতি আম বেশি রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব আমের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব আম যুক্তরাজ্য, ইতালি, সুইডেন, জার্মানি, কুয়েতসহ আটটি দেশে রপ্তানি করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

AKASH Digital TV

May be an image of text that says 'হেলপ লাইন: 01713636661 sop fe. ESOP পমষ্দির বিডি একটি মোবাইল থেকে সকল অপারেটরে রিচার্জ সর্বোচ্চ কমিশন সুবিধা অ্যপস ও এসএমএস দিয়ে রিচার্জ সুবিধা ২৪ ঘন্টাই অফুরন্ত ক্যাশব্যাক সুবিধা প্রতিদিন স্পেশাল ড্রাইভ অফার ২৪ ঘন্টা কাস্টমার কেয়ার সার্ভিস A product of ESOP BANGLADESH LTD'

© স্বত্ব সংরক্ষিত  রংপুর বার্তা- ২০২৩
Theme Customized By Dev Joynal