1. admin@sottosongbad.com : admin :
সলঙ্গার তালগাছ প্রেমিক এস.এম.আমিনুল হক স্বপন - রংপুর বার্তা
শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:২১ পূর্বাহ্ন

সলঙ্গার তালগাছ প্রেমিক এস.এম.আমিনুল হক স্বপন

  • আপডেট সময় : সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ৫৪ বার পঠিত

সলঙ্গার তালগাছ প্রেমিক এস.এম.আমিনুল হক স্বপন

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
” তাল গাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে, সব গাছ ছাড়িয়ে-উঁকি মারে আকাশে “। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই কবিতাটি মনে করিয়ে দেয় আকাশমুখি এই গাছটির কথা।যদিও সলঙ্গা অঞ্চলে অগণিত তাল গাছের সারি তেমন একটা দেখা যায় না। যা ছিল তাও কমে বিলুপ্তির পথে।
এই তাল গাছ বাঁচিয়ে রাখতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন সলঙ্গা থানার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চকবরু গ্রামের এস.এম.আমিনুল হক স্বপন।পেশাগত জীবনে তিনি দক্ষিণ পুস্তিগাছা বনানী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন প্রধান শিক্ষক।পারিবারিক জীবনে স্ত্রী, যমজ দুই কন্যা অর্থী ও অর্পাকে নিয়ে তার সংসার।
সাদা মনের এই পরিবেশ সচেতন মানুষটি ২০১৪ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রায় ৯ হাজার তালবীজ পর্যায়ে ক্রমে রোপণ করেছেন।তার মধ্যে প্রায় ৪৫% থেকে ৫০% তালবীজের চারা নষ্ট হয়ে গেছে। বাকি গুলো বিদ্যমান রয়েছে। তবে পর্যায় ক্রমে রোপণের কারণে সব গুলো গাছ দৃশ্যমান হয়ে উঠেনি।ইতোমধ্যে যে সমস্ত তাল গাছ গুলো দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে সে গুলো রাস্তায় চলাচল কারী পথচারীদের দৃষ্টি কেড়েছে।
যে সব রাস্তায় তার রোপণকৃত তাল গাছ রয়েছে-দক্ষিণ পুস্তিগাছা-বনানী বালিকা বিদ্যালয় হতে শলী বাজার ০.৫ কিমি। হরিণ চড়া বাস স্ট্যান্ড হতে ধরাইল হাট ৪ কিমি রাস্তার দু ধারে। ধরাইল গাছগাড়াঁ ব্রীজ হতে কুচিয়ামারা দিকে ১ কিমি।দবিরগঞ্জ বাস স্ট্যান্ড হতে বিশ্বরোড এর দক্ষিণ পাশ দিয়ে ভেংড়ি গ্রাম পর্যন্ত ২.৫ কিমি। চকবরু গ্রাম এর আশে পাশে ১ কিমি। পুস্তিগাছা গ্রাম হতে কচিয়ার বিলের দিকে ০.৫ কিমি। শলী বাজার হতে বাঘমারা গ্রাম ও ভেংড়ি পূর্ব পাড়া পর্যন্ত এবং শলী গ্রামের পাশে ৩ কিমি।বর্তমানে তার নিবিড় পরিচর্যায় গাছ গুলো রয়েছে।
তালগাছ প্রেমিক স্বপন বলেন,আমাদের দেশে প্রয়োজনের তুলনায় গাছ পালা নেই।পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে বৃক্ষ রোপণের বিকল্প নেই।তাই তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তালবৃক্ষ প্রেমিক স্বপন বলেন,ছোট বেলা থেকেই গাছ রোপণের প্রতি তার আগ্রহ ছিল। তিনি প্রথম পর্যায়ে বেশ কিছু বাবলা গাছের চারা লাগিয়েছিলেন। কিন্তু সে গাছ গুলো একটু বড় হলে যার যার মতো কেটে নিয়ে যায়।ফলে তার মনোবল ভেঙে যায়।দীর্ঘ বিরতির পর তিনি আবার তালের চারা রোপণের কাজ শুরু করে অদ্যাবধী অব্যাহত রেখেছেন।
পরিবেশ সচেতন স্বপন আরও বলেন, অপার সৌন্দর্যের গাছ তালগাছ। ব্জ্রপাত নিধোরক তালগাছ । মাটির ক্ষয়রোধকারী ও দীর্ঘজীবি তালগাছ।বহুগুণের ফল তাল। তালশাঁস শরীর কে শীতল করে,,হাড় ও কোষের ক্ষয় রোধ করে ।এই গাছে পাখিরা বাসা বাঁধে। শক্তিশালী কাঠ ও জ্বালানী হয়।এছাড়া তালগাছের পাতা দিয়ে হাতপাখা, মাদুর ও খেলনাসহ গৃহস্থালির বিভিন্ন কাজে ব্যবহার হয়।
তাল গাছ প্রেমী শিক্ষক এস.এম.আমিনুল হক স্বপন বলেন, তার লক্ষ্য জীবনে কমপক্ষে এক লাখ তাল গাছের চারা লাগানো। তিনি এ মহৎ কাজে সকলের সহযোগিতা কামনা করে সবাইকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগিয়ে প্রিয় জন্ম ভূমি কে বৃক্ষ অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত  রংপুর বার্তা- ২০২২
Theme Customized By Dev Joynal