1. admin@sottosongbad.com : admin :
স্বাক্ষর জাল করে শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ - রংপুর বার্তা
সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন

স্বাক্ষর জাল করে শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ

  • আপডেট সময় : রবিবার, ২৯ মে, ২০২২
  • ৬৩ বার পঠিত

 

অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতিসহ স্বাক্ষর জালিয়াতি করে শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অঞ্চল, রাজশাহী অফিস।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে দুই সদস্যে কমিটি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরও (মাউশি)। ২০ মে ২০২২ মাউশির সহকারী পরিচালক আবদুল কাদের স্বাক্ষরিত চিঠিতে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নওগাঁ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ নাজমুল হাসান ও একই কলেজের সহকারী অধ্যাপক জাকির হোসেনকে। তাদের আগামী ১৪ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

ওই কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক এরশাদ আলীর লিখিত অভিযোগ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৮ জুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরির্দশক অধ্যাপক ড. মোঃ শামসুদ্দিন ইলিয়াসের পাঠানো পত্রের অনুমোদন সাপেক্ষে বালাতৈড় সিদ্দিক হোসেন ডিগ্রি কলেজের নিয়োগ বোর্ড গঠন করা হয়। ওই বছরের ৩১ আগস্ট বোর্ড গার্হস্থ্য অর্থনীতি, মনোবিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিভাগের জন্য তিনজন শিক্ষক নিয়োগ দেয়। গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগে ফারহানা আফরোজ, মনোবিজ্ঞানে শহিদুজ্জামান ও অর্থনীতি বিভাগে এরশাদ আলী নামে তিনজন নিয়োগ পান।

এদিকে, ২০১৯ সালের শুরুতে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে ম্যানেজিং কমিটির হাত থেকে সব নিয়োগ ক্ষমতা চলে যায় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ র”) হাতে। এতে বিচলিত হয়ে পড়েন বালাতৈড় সিদ্দিক হোসেন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেন। কারণ এনটিআরসিএ’র ক্ষমতা গ্রহণের আগেই আরও পাঁচজন শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টায় ছিলেন তিনি। তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এরইমধ্যে গভর্নিং বডির কাউকে না জানিয়ে ওই তিন শিক্ষক নিয়োগের সঙ্গে সম্পৃক্ত মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) মহাপরিচালকের প্রতিনিধি স. ম. আব্দুস সামাদ আজাদ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি সারওয়ার জাহানের স্বাক্ষর জাল করেন আমজাদ হোসেন। জালিয়াতির মাধ্যমে দর্শনে কামাল হোসেন, বাংলায় মানিক, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে জাকির হোসেন, ইংরেজি রাজীব ও ভূগোলে আবু রায়হানসহ পাঁচজন এবং আগের তিনজনসহ মোট আটজনকে নিয়োগ দেখান। কলেজ অধ্যক্ষ পাঁচজনের অবৈধ নিয়োগ বৈধ করার জন্য প্রভাষক এরশাদ আলীর বৈধ নিয়োগ সংক্রান্ত সব চিঠিপত্র এবং রেজুলেশন টেম্পারিং করেন।

নিয়োগ বোর্ডের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধির চিঠি, ডিজি প্রতিনিধি নিয়োগের চিঠি, সাক্ষাৎকার বোর্ডের ফলাফল শিট ও রেজুলেশনসহ নিয়োগ সংক্রান্ত সব ধরনের কাগজ নকল করে পাঁচটি বিষয়সহ মোট আটটি বিষয় নিয়োগ উল্লেখ করে বেতন আবেদন প্রস্তুত করেন তিনি।

তথ্য যাচাই করা হয়েছে। মাউশি থেকে নির্দেশ পেলে তখন তদন্ত করা হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অঞ্চল, রাজশাহীর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. কামাল হোসেন
২০১৫ সালের ২২ আগস্ট তারিখের মূল রেজুলেশন কাটাকাটি ও ঘষামাজা দেখে সন্দেহ হলে এরশাদ আলী ও দর্শন বিভাগের শিক্ষক কামাল হোসেনের বেতন আবেদন বাতিল করে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অঞ্চল, রাজশাহী অফিস। শিক্ষা অফিস থেকে অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেনের কাছে এ বিষয়ে কৈফিয়ত তলব করা হলে তিনি দীর্ঘদিন কোনো জবাব দেননি। এক পর্যায়ে আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের পরিচালক গত বছরের ২৭ অক্টোবর কলেজে গিয়ে যাচাই-বাছাই করে অধ্যক্ষের সব জালিয়াতির প্রমাণ পান।

এ বিষয়ে বালাতৈড় সিদ্দিক হোসেন ডিগ্রি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক এরশাদ আলী বলেন, ২০১৫ সালের ১ এপ্রিলের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে ওই বছরের ৩১ জুলাই নিয়োগ বোর্ডের সুপারিশক্রমে ২২ আগস্ট গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৩১ আগস্ট নিয়োগপত্র পাই। ২ সেপ্টেম্বর অর্থনীতি ডিগ্রি ৩য় পদ হিসেবে যোগদান করি।

তিনি বলেন, ২০১৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি অর্থনীতি ডিগ্রি ২য় পদ শূন্য হয় এবং ১৫ মার্চ জিবি কর্তৃক আমাকে ২য় পদে বিধি মোতাবেক পদায়ন (সমন্বয়) করা হয়। কলেজটির ডিগ্রি শাখা নন-এমপিও হওয়ার কারণে ২০১৯ সাল অবধি আমার বেতন ভাতাদি হয়নি। ওই বছরের জুলাই মাসে এমপিওর অনুমতি পাওয়ায় অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেন গোপনে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অঞ্চল, রাজশাহীর মাধ্যমে আমার বেতন আবেদন দাখিল করেন। সেখানেই ঘটে যায় বিপত্তি। ধরা পড়ে অধ্যক্ষের নিয়োগ জালিয়াতি।

আমার বেতন আবেদনের সময় অসৎ উদ্দেশ্যে গোপনে সব কাগজ টেম্পারিং করে আমাকে সরাসরি ২য় পদে নিয়োগ দেখিয়ে (সমন্বয় উল্লেখ না করে) আবেদন করেন। অধ্যক্ষ গভর্নিং বডিকে লুকিয়ে মূল রেজুলেশনে কাটাকাটি করে আরও কয়েকজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। মূলত, বৈধ তিনটি নিয়োগের পাশাপাশি অবৈধ পাঁচটি নিয়োগ ২০১৫ সালের দেখানোর জন্যই সব কাগজ জালিয়াতি করে আমার পেটে লাথি মেরেছেন তিনি। যে কারণে আমি ২০১৯ সালের জুলাই মাস থেকে ন্যায্য বেতন পাচ্ছি না।

এরশাদ আলী আরও বলেন, অধ্যক্ষ এতদিন আমাকে অনুরোধ করে আসছিলেন, আমি যেন এই ঘটনাগুলো কাউকে না বলি, কিন্তু এখন তিনি নানাভাবে ভয়ভীতি ও চাকরিচ্যুত করার হুমকি দিচ্ছেন। আমি কলেজে যাওয়া-আসা নিয়ে অনেক শঙ্কায় রয়েছি। যে কারণে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে পৃথক দুটি অভিযোগ দাখিল করেছি। আমি আমার ন্যায্য পুরো বেতনসহ অধ্যক্ষের জালিয়াতির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। সেইসঙ্গে আমার জীবনের নিরাপত্তার জন্য মাউশি ডিজি মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

বালাতৈড় সিদ্দিক হোসেন ডিগ্রি কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক ফারহানা আফরোজের কাগজ অধ্যক্ষ টেম্পারিং করেননি। এ কারণে ২০১৭ সাল থেকে তিনি বেতন পাচ্ছেন। আর টেম্পারিংয়ের কারণে এরশাদ আলীর এবং এখনও ৩য় পদে থাকায় মনোবিজ্ঞানের শিক্ষক শহিদুজ্জামানের বেতন হচ্ছে না।

জানতে চাইলে শহিদুজ্জামান বলেন, অধ্যক্ষ স্বাক্ষর নকল করেছে। আমরা তিনজন একসঙ্গে নিয়োগ পেলাম। এরপরই পেপারে নাম নেই, বোর্ড গঠন নেই, তারপরও পাঁচজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এটা স্পষ্ট জালিয়াতি। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত  রংপুর বার্তা- ২০২২
Theme Customized By Dev Joynal